Tuesday, June 2, 2020

যাওয়া


মানুষ তো চলেই যায়
একঘর থেকে অন্যঘরে ।
বারান্দায় পড়ে থাকে প্রগাঢ় প্রচ্ছায়া।
বিকেলের ক্লান্ত রোদে
ঘুঘু চরে বাস্তুভিটেয়,
ভাঙা কলসির কানা
নিভন্ত উনুনের ক্ষত  
ফেলে যাওয়া গেরস্থালির আখ্যান শোনায়
পরিযায়ী পাখিদের।
একদা বিশ্রম্ভালাপের শব্দ
গুঞ্জন তোলে প্রতিধ্বনিময়
জানালার কার্নিশ থেকে
ফিরে যায় অভুক্ত কাক
দূরের নিশানায়।
ফেলে যাওয়া সময় আঁকড়ে ঝোলে
পুরানো ক্যালেন্ডার , মলিন দেওয়ালে।
শুক্লপক্ষের আলো
চুপিসারে ঢুকে আসে ঘরে
মানুষের খোঁজে
তবু, মানুষ তো চলেই যায়।
পাখপাখালির শব্দ নিভে গেলে
সমস্ত আয়না ভেঙে দিয়ে
সব বিভ্রম ভুলিয়ে দিয়ে
সকল খোঁজ অসমাপ্ত রেখে
একঘর থেকে অন্য কোন ঘরে
মানুষ চলেই যায় ।

তথাগত


লুম্বিনী বনের চাঁদ এখন সন্দেহপ্রবণ
কোথা হতে এসেছ, তথাগত
কত দূর কত পথ যাবে আর?
ভূর্জপত্রিকা, তাম্রপত্রলিপি
শিলালিখনের সমূহ সাতকাহন
রেখেছো যতনে?
জ্যোৎস্নার বানে যায় নি তো ভেসে
ভিক্ষান্ন, মাধুকরী চাল
নিদারুণ ক্ষুধা, ক্ষুধানিবারণ?
সব থাক পড়ে, যেখানে যেমন।
 দেখো,বনবৃক্ষ যত দাঁড়িয়েছে  একসাথে
অক্লান্ত শপথে
যতদূর পৌঁছায় শাখা
সে আকাশ তার
সে মাটি তার, যতখানি ঢাকে তার মায়াময় ছায়া।
প্রশ্নহীন সুসিদ্ধ অধিকার।
তথাগত, তবে যাও ফিরে
আন্দোলিত অরণ্যের ভিড়ে
শিখে নিও প্রার্থিত প্রাকৃত গান
জন্মমাটির নাম সন্দেহাতীত, সপ্রমাণ।

Thursday, August 9, 2018

বিষণ্ণ শহর




আমার শহর ঢেকে যাচ্ছে গাঢ় কুয়াশায়
জমাট ক্ষোভের মত বিষণ্ণ কুয়াশায়
ঢেকে যাচ্ছে আমার শহর
যে কোন সময় বিস্ফোরণ হতে পারে
ভয়াল বিস্ফোরণ—অন্তর্নিহিত কথার।
উৎসব শেষে যারা ফিরেছে ঘরে
তারা কেউ আনন্দিত নয়।
কেউ শোকগ্রস্ত নয়, যারা
এইমাত্র ফিরে এল টাটকা কবরে
তাজা ফুল ছড়িয়ে ।
শোক ও সুখ সমার্থক আজ।
ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়াহীন স্থবির সময়
ঢেকে যাচ্ছে ধুসর কুয়াশায়
গাছের পাতা অস্বীকার করেছে বাতাসের গতি
নদীজল স্থির চিত্রের মত শুয়ে আছে
চলাচল ভুলে।
আগ্নেয় লাভায় রুদ্ধ সভ্যতার পটভূমে
জন্মায় না ইতিহাস।
প্রাগৈতিহাসিক  প্রাণীর  ধুম্রনিঃশ্বাসে
ক্রমশ; অস্পষ্ট জীবনের অবয়ব।
তবু হে অলৌকিক করপুট
তুলে নাও জীবনের বীজ ও সংগ্রাম
শুরু হোক, প্রেম ও  প্রাপ্তির
আশ্চর্য অধ্যায়।

মধ্যবিত্ত


ছিটেবেড়ার দেওয়াল পেরিয়ে
সন্ধ্যা ঢুকে যায় যখন তখন
চৌখুপি ঘরে
চৌকিতে জড়সড় শৈশব
রুটি সেঁকা দেখতে দেখতে
শিখে নেয় বর্ণ পরিচয়।
নামতার সুরে মেশে শঙ্খের আকুতি
অতীত আলাপে বিম খেয়ে কেঁপে ঠে 
বৃদ্ধার পানসুপারি ঠোঁট । 

সকাল হলেই
খোলা চাতালে  ওড়ে খুশমেজাজ রোদ  
লাউমাচায় দোল খায় পড়শি পাখি
ষ্টিকুটুম  গান গেয়ে মিতালি পাতায়
গৃহস্থের খোকার সাথে

নবান্নের দিনে
নতমুখী চোখে ভাসে ব্রতকথার  সুর   
দুধে ভাতে রেখো মাগো  আমার সন্তানে   

নটী


সব অন্ধকার মুছে দিয়ে
তুমি চলে যাচ্ছ অন্য গোলকে
তোমার লুটিয়ে  পড়া রোদ-চাদরে
আশিরপদনখ আবৃত করে
আমি আলো হয়ে জ্বলি
অনুরোধের আসরে, বৈঠকি জলসায়।
জোনাকি সখীদের ভুলেছি স্বেচ্ছায়
সিন্দুকে জীর্ণবাস  অবসর কাটায়
কীটদংশনে
অযতনের ঘুঙুর দানাদুটি
পড়ে থাকে হৃদয়ের কাছে
কিশোরী যা বেঁধেছিল একদিন
মরমিয়া হাঁসটির পায়ে, ভালোবেসে।
সময়ে বহতা সব
নকশি আখর রেখে রোদ –জল-হাওয়ায়
সব ভেসে যায়।
ত্বক কুঞ্চনে আজ আগুন আভাস
এক মুঠো জল দাও, জীবন জুড়াক
ত্রাণমন্ত্রপাঠ দহন প্রলাপ
“স বাহ্যাভ্যন্তরঃ শুচিঃ” পরিযায়ী প্রাণ।