Friday, October 9, 2015

জন্মদিনে



একটা জন্ম
সম্পর্কের লতাপাতায়
শেকড়ে মূলে জড়িয়ে
 ক্রমশঃ এক জীবন হয়ে ওঠে
সমস্ত সুখ ও শোক
সকল প্রমোদ ও প্রমাদ
বৃন্তমুখে ফুল হয়ে
গান গায়, ভালবাসে
ভালবাসতেও শেখায়
প্রতি জন্মদিনে তাই
এক আমির মধ্যে
জন্ম নেয় কত আমি
দৃঢ় গ্রন্থির টানে
সমৃদ্ধ হৃদি-ডোর
টানাপোড়েনের গল্পের মাঝেই
খুঁজে নেয় আগামীর কল্পকথা
কিছু বিশ্বাসে, কিছু প্রত্যাশায়
জন্মের পাশে জীবন
জীবনের সঙ্গেই জন্ম
অশেষ... অনন্ত

নিভৃতের ঈশ্বরী



জ্যোৎস্না রাতে
সবাই যখন গিয়েছিল বনে,
আমি যাইনি।
আমি তখন বনজ্যোৎস্না মেখে
আদিম ঈশ্বরীর মত
চাঁদের ঝরে পড়া আলোয়
নিভৃতের স্নান সেরেছিলাম।
কোমল বল্কলের নিবিড় গল্পে
তৃণলতার বুননকাজ
নির্দিষ্ট করেছিল আমার রূপসাজ।
অনাদি প্রকৃতির নিবিড় রহস্যের ঢেউ
কতবার...কতবার খেলা করেছিল
আমার খোলা চুলে
আর তারপর
প্রথম সূর্যাগ্নির দিকে চোখ মেলে
আমার প্রত্যয়ী ঠোঁট
উচ্চারণ করেছিল সেই তীব্র শব্দ স্রোত
যার অভিঘাতে
সমস্ত নির্দেশিত পথ
চিনে নিয়েছিল নতুন গন্তব্য
উন্মুখ গতিতে
বাতাসও কেঁপেছিল অশ্রুতপূর্ব ঘোষণায়-
সমস্ত উৎসব আজ সেখানেই
ঈশ্বরীর সাজে যেখানে গান গায়
এক নির্বিকার মানবীহৃদয়।

Tuesday, September 8, 2015

পুনর্জন্ম



সব শব্দ শেষ হয়ে যাওয়ার পর
ছড়িয়ে থাকে যে মুখর নৈঃশব্দ্য
তাকে ছুঁয়েই জেগে উঠি প্রতিবার
নবনির্মাণে।
এখনো আকাশ নীল রঙ মাখে প্রতিদিন
স্থির ভরসায়,
পাহাড়েরা মুখ দেখে নেয় নদীজলে,
শস্যের আলাপনে
নিভৃতের গণগানে
যাবতীয় মৃতদাগ শবঘ্রাণ মুছে ফেলে
 নিশ্চিত প্রতিজ্ঞায় ।
ইতিহাসের শেষের পাতায়
মৃত্যুরা বারবার হার মানে
জীবনের আশ্লেষগাথায়...

Monday, August 31, 2015

মুখোশ




মুখোশটা খুলে নিতে পারলেই
একটা নতুন সভ্যতার
কথা লেখা যায়
নির্মোকের ভেতরে বাইরে
বিপরীত রঙ
দু রকম ছবি আঁকে
ছবি বদলায় না
শুধু নতুন রঙের প্রলেপ
বিবর্ণ চিত্রকল্পে
ভরে দেয় অপরিমিত ফাঁকি
নীতিমালার ছিদ্রসুখে।
মুখোশ ক্রমশঃ বড় হয়
মুখ থেকে বুকে
ঢেকে ফেলে অবয়ব
জনান্তিকে ।

মুখোশটা ছিঁড়ে দিতে পারলেই
একটা সত্যি গান গাওয়া যায়
একটা রীতিমত সত্যি কবিতার
কথাও ভাবা যায়
মুখোশটা খুলে দিতে পারলে।

Sunday, August 9, 2015

শ্রাবণধারা




এই আষাঢ়ে শ্রাবণে
যত মেঘ ঝরে মনের গহনে
তত ঝরে না তো গগনে...
এখন অনেক বৃষ্টি চাই
ধারাসার অবিরত
যাতে ভিজে যায়
বারুদের স্তূপ
লুকোনো বোমা যত
দিগাঙ্গনে শাওনের অভিসার
আবছায়া আঁকে  সীমান্ত- কাঁটাতার
অস্ত্রভাঁড়ারে অশেষ  ঘুমের ঘোর
সৈনিক হাতে  মেঘদূত কথা
প্লাবনে লেখে শ্রাবণের গাথা
মনোহারী চিতচোর ।
বৃষ্টি আসুক বৃষ্টি পড়ুক
শাল তাল  আর ফসলখামারে
জরি ফুল বোনা সবুজ চাদরে
ফুটুক কিষাণী সুখ ।
 এই মন-উচাটন শ্রাবণে
যত দেয়া ঝরে সজল নয়নে
তত ঝরে না তো গগনে...।