Monday, March 13, 2017

বোশেখ – ব্যথা



কৃষ্ণচূড়ার দৃপ্তশাখায়
জাগলো যখন বোশেখ – ব্যথা
তেপান্তরের মাঠের ছায়ায়
তুমিও একা আমিও একা ।
একটা নদী আমার নামে
পাঠিয়ে দিলাম তোমার দেশে
জোয়ার ভাটার হেলাফেলায়
উজান বেয়ে মাঝির বেশে
আসতে পার, মন যদি চায়
শীতের শেষে পত্রঝরায়
মাঠের পাশে কাশ আঁকবো
ধুলোর কাঁকড় সরিয়ে দিয়ে ।
কাপাস তুলোর নরম আদর
চাঁদের আলোয় ডুবিয়ে নিয়ে
জ্যোৎস্না ক্ষতে প্রলেপ দেবো
মেঘের ঘরে হাত বাড়িয়ে।
মাটির জীবন  মিশবে ধুলোয়
জন্মবীজও  মাটির নীচে
কৃষ্ণচূড়ার ছন্দ শিখে
লাল ছড়াব আকাশ দ্বীপে
সন্ধ্যা যখন, পাখির সাথে
ফিরবো বাড়ি গহন বনে
একলা আমি গান শোনাব
একলা তোমায় আপনমনে

কফিন



  যারা কোনদিন আসবে বলেনি
  তাদের জন্যেই,  মায়া আঁচল পেতে রাখে
  ভোরের পৃথিবী।
 কুয়াশা ভেজা পথে,
 মৌন  কফিনের নামফলক ভেঙে
 উধাও দু-এক শিশিরআখর
 তির্যক সূর্যালোকে ।

 যারা একদিন ছিল,
 ছিল প্রবলভাবে
 আগুনে ও উত্তাপে
 জল-মাটি-বাতাসের সংযোগে,সদ্ভাবে
 তারা চলে গেছে
 চলে গেছে  বহুদূরে
 মলিন স্বাক্ষর রেখে
 শ্যামল  বৃক্ষমূলে
  জমা রেখে যাবতীয় দীর্ঘশ্বাস
পাতার  আড়ালে থাকা গভীর কোটরে

এইসব মমিদেহ ঘিরে
এখন প্রেতনাচন সময়ের
প্রবল উল্কাপাতের শোকে
ধারালো , আরো ধারালো হয় ইস্পাত
শীতল থেকে শীতলতম মৃত্যু ঘনায়
পাহাড় ও উপত্যকায়
অব্যর্থ ভবিতব্য হয়ে

মানুষের পালে
শুধু ভিড় বাড়ে
জান্তব গন্ধ ছড়িয়ে।

সিপিয়া রঙ সময়



সময়ের রঙ এখন সিপিয়া
এই সিপিয়া রঙের সময়ে
কোন কথা বোলো না
চুপ করে থাকো আর
চোখে রাখো নিরীহ নিরীক্ষণ
সতর্ক শ্বাপদের মতো
পার করো প্রহরার ক্ষণ
সমস্ত প্রশ্নচিহ্ন
বিকলাঙ্গ ভাসিয়ে দাও
প্রশ্নহীন আনুগত্যে
নতজানু সভ্যতার কাছে
শোন, কথা বোলো না
দেখো, কথা বোলো না
গুণে রাখো পাতাদের অসহায় খসে পড়া
তারাদের অকাল পতন
শস্যক্ষেত্র জ্বলে গিয়ে বধ্যভূমি হওয়া
ভুলে যাওয়া অনাবিল স্বাধীন চারণ
এই বিপ্রতীপ সত্য সব
আগুন ও লাভা হয়ে
জমা থাক বুকের ভেতর

ইতিহাসের  পাতায় লিখো
অসহ্য উদগীরণ
ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরির
জ্বলন্ত স্বাক্ষর।

Wednesday, November 9, 2016

বিসর্জনের পর


        
শূন্য মন্ডপের খাঁচায়
লুটিয়ে থাকে সন্যাসী রাত। 
 বিসর্জনের গন্ধ মেখে
হেমন্ত কুয়াশায় স্নান সেরেছিল
 যে কোজাগরী চাঁদ ,
কার্তিকের কাঙাল প্রদীপের সাথে
বহুদিনের ভাব-ভালবাসা তার।
এখন, উৎসবের মাঠে
নিশ্চুপ হাহাকার , 
আলোর ছায়ায় গড়ে ওঠে অজানা কাহিনী
খড়হীন কাঠামোয়।
 ছন্দসী ক্রীড়াময় ছুটে আসে যুবাশ্মরোহী
যুদ্ধের উপক্রমণিকায়-
তূণীরে সাজিয়ে  মহাতূণ
গোপন শরসন্ধানে।
যে যুদ্ধ অনিবার্য
বোধন ও বিসর্জনের গাথায়
নির্জন কবিতার মত সে যাপন
সুগভীর কথা বলে যায় ।
গড়ে ওঠে বিজয় তোরণ
অকথিত মোহন কারুকাজে
 শুরু হয় 
আগামী উৎসবের খোঁজ
উদ্বৃত্ত জীবনের আঁচে। 

Thursday, October 27, 2016

দেবদারু




               
স্বর্গের সিঁড়ি বড় পিছল,
আমি বরং দেবদারু হব
সহজ বিভঙ্গে
তীব্র আসঙ্গময় পত্রসাজের 
সরল আয়োজনে
সূচিত হবে  উৎসবের রাত
উল্লসিত দিন, সবুজ আনন্দের
গহন বিস্তারে ছায়া-কারুকাজ
ছড়াবে মায়াবী আলো
অরণ্যের গভীর আঁধারে।
উচ্চশাখা , আকাশে ছোঁয়াবে মাথা
সেরে নেবে আন্তরিক কথোপকথন
নিজস্ব ঈশ্বরের সাথে
মৃদুস্বরে , সুবাসিত আলাপনে।
একদিন পারিজাত বনে
কস্তুরি গন্ধে যখন তুমুল প্রলয়
সুমসৃন দেহকান্ড বেয়ে
বহে যাবে স্নেহরস, অপার  প্রণয়  
আশ্রিত তৃণপাত্রে ভরে দেবে
অনিঃশেষ  প্রেম, আশ্লেষে আবেগে
 শেষ বজ্রপাতের আকাঙ্ক্ষিত রাতে।   

Tuesday, October 25, 2016

মাতৃরূপেণ




"রূপংদেহি, জয়ং দেহি, যশোদেহি----"

চন্দ্রাতপের নিচে
বিছিয়ে রাখি আতপ্ত শরীর
বীজনে মধুক্ষরা শান্তির ছল
কাঙ্খিত স্তবে আকাঙ্খিত নির্মাণ শবপ্রতিমার৷
আমি প্রান্তরে হেঁটে যাওয়া কৃষকরমণী
সাধারণী
মনোযোগী শস্যনির্মাণে
ক্ষুধার্ত সন্তানের৷
অস্বীকার করেছি প্রতিদিনের সহমরণ
অবহেলায়
রূপ জয় যশ লোভী পৃথিবীর বিপরীতে
ভেসে যাই জল- মাটি ভেঙে
একাকী অসীমে
আঁচলের ছিদ্রপথে
খেলা করে সূর্য ও চাঁদ
ভুলে যাইবিষাদ, জন্মান্তরের৷

দর্পণে দেখেছি মুখ
চাকচিক্যহীন
বিষ্ণুচক্র থেমে গেছে দূরে
স্পর্ধিত দৃষ্টির আগে,
ঈপ্সিত নয় সতীমাহাত্ম্য
খন্ডিত দেহভাগের৷

আমার পূর্ণ পৃথিবী
প্রতি সন্ধ্যাকালে
জড়ো হয় সহজ দাওয়ায়
স্বেদসিক্ত ভালে
জেগে ওঠে ত্রিনয়ন গভীর মায়ায়

আমি নারী, সাধারণী
সন্তান পরশে শুধু দিব্যজননী৷